ইন্টারনেটের দাম নিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। আর এ বিষয়টি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নজরে আসার পরও তা বন্ধ হচ্ছে না। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা।
এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ‘দেশের সব মোবাইল ফোন অপারেটর তাদের পি-১ ইন্টারনেট প্যাকেজের দাম কমালেও কেবল গ্রামীণফোন তা মানছে না। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার বলা হলেও তারা তা আমলে নিচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘গ্রামীণফোন পে অ্যাজ ইউ গো নামে নতুন একটি ইন্টারনেট প্যাকেজ চালু করেছে, যা বর্তমানে প্রচলিত পেগো প্যাক (পি১)-এর ট্যারিফ মূল্যের চেয়ে ৫০ শতাংশ কম মূল্যে।
তবে পি-১ প্যাকেজে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি কিলোবাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের মূল্য ২ পয়সা (১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য) করে নিচ্ছে। এতে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে গ্রাহকদের কাছ থেকে। ’
এ প্রসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলনের সমন্বয়ক জুলিয়াস চৌধুরী বলেন, ‘গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে মূল্য কমানো গণমানুষের দাবি। অথচ মোবাইল ফোন অপারেটররা বিটিআরসির সঙ্গে যোগসাজশ করে বিষয়টিকে গোঁজামিল দেয়ার চেষ্টা করছে।
গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের মূল্য প্রতি মেগাবাইট ১০ পয়সা এবং প্রতি গিগাবাইট ১০ (ফ্লাট রেট) টাকা নির্ধারণ এবং সর্বনিম্ন গতি ৫১২ কিলোবাইট নির্ধারণ করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আমরা আন্দোলন করে আসছি।
এ পরিপ্রেক্ষিতে গত জুনে পুরোমাত্রায় আন্দোলন শুরু হলে মোবাইল ফোন অপারেটররা পি-১ প্যাকেজের দাম কমিয়েছে বলে বিজ্ঞাপন ও সংবাদ প্রচার করে। তবে গ্রামীণফোন পি-১ পরিবর্তন না করে একই ধরনের নতুন একটি প্যাকেজ চালু করেছে।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘গ্রামীণফোনকে প্রতারণার এই সুযোগ দিচ্ছে মূলত বিটিআরসি। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার গাফিলতির কারণেই গ্রামীণফোনের মতো প্রতিষ্ঠানরা আমাদের পাত্তা দিচ্ছে না।’
উল্লেখ্য, গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে পেগো প্যাক (পি১)-এর ট্যারিফ মূল্যের চেয়ে গ্রামীণফোন ৫০ শতাংশ কম মূল্যে পে অ্যাজ ইউ গো ইন্টারনেট প্যাকেজ চালু করে। নতুন পেগো প্যাকেজে প্রতি কিলোবাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের মূল্য ১ পয়সা (১৫% ভ্যাট প্রযোজ্য) ধার্য করা হয়েছে।
পাশাপাশি কোনো প্রকার অস্বাভাবিক বিল যাতে না আসে সে জন্য এই প্যাকেজে সর্বোচ্চ ৩০০ (+ভ্যাট) টাকা ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবহার করা যাবে। যদি কোনো গ্রাহক ৩০ দিনের মধ্যে ৩০০ টাকা (+ভ্যাট) খরচ করে ফেলেন সে ক্ষেত্রে তার ইন্টারনেট ব্রাউজিং অপশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।
যতক্ষণ না পর্যন্ত তিনি পুনরায় এই প্যাকেজ চালু করবেন। যদি গ্রাহক ৩০০ টাকার ব্যবহার শেষ হওয়ার পর কোনো পদক্ষেপ না নেন তাহলে সংযোগটি ৩০ দিন অতিক্রম করার পর পুনরায় চালু হবে।
জুলিয়াস চৌধুরী বলেন, ‘আগে পি-১ প্যাকেজে প্রতি কিলোবাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ ২ পয়সার সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট। এ হিসেবে গ্রামীণফোন পি-১ প্যাকেজে ১ গিগাবাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ নিত ২০ হাজার ৯৭১.৫২ টাকা। অথচ ওই সময় গ্রামীণফোনের পি-৩ প্যাকেজে ১ গিগাবাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ ৫০ টাকার মতো।’
এদিকে গ্রামীণফোন পি-১ প্যাকেজের দাম না কমালেও তারা অস্বাভাবিক বিল এড়াতে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যা ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবহার করার সময় বেঁধে দিয়েছেন।
যদি কোনো গ্রাহক ৩০ দিনের মধ্যে এই টাকা খরচ করে ফেলেন সে ক্ষেত্রে তার ইন্টারনেট ব্রাউজিং অপশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত তিনি পুনরায় এই প্যাকেজ চালু করবেন।
বিটিআরসির ওই কর্মকর্তা জানান, ‘পে অ্যাজ ইউ গো প্যাকেজটি ব্যবহার করতে পারছে নতুন সংযোগকারীরা। অথচ পুরনো গ্রাহকদের জন্য এখনও বহাল রয়েছে পি-১ প্যাকেজ।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এখনও অনেক গ্রাহক রয়েছেন যারা বিষয়টি না বুঝেই গ্রামীণফোনের পি-১ প্যাকেজ ব্যবহার করছেন। আর এ সুবিধাটাই নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তাই চলতি সপ্তাহে এ বিষয়ে মোবাইল অপারেটরটির সঙ্গে বৈঠক করবে বিটিআরসি।’
গতকাল মঙ্গলবার গ্রামীণ ফোনের চিফ টেকনোলজি অফিসার তানভীর মাহমুদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে এ প্রসঙ্গে গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ারস অফিসার মাহমুদ হোসাইন গতকাল জানান, ‘গ্রাহকরা চাইলে নতুন পেগো প্যাক (পি-১) প্যাকেজ থেকে পে অ্যাজ ইউ গো প্যাকেজে চলে আসতে পারে।’
পি-১ প্যাকেজের ইন্টারনেট ব্যবহারের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দাম কমানোটা বড় ইস্যু নয়, গ্রাহকদের সুবিধাটাই হচ্ছে মূল কথা। আগে গ্রাহকদের অজান্তেই ব্যালেন্স শেষ হয়ে যেত, তবে এখন আমরা এসএমএস দিয়ে গ্রাহককে ব্যালেন্স জানিয়ে দেই।’
বিষয়টি না বুঝেই যেসব গ্রাহক পি-১ প্যাকেজ ব্যবহার করছে তাদের বিপুল পরিমাণ টাকা লোকসান হচ্ছে। আর এটা রোধে গ্রামীণ ফোনকে বারবার পি-১ প্যাকেজের দাম কমানোর জন্য বলা হলেও গ্রামীণ ফোন তা কেন আমলে নিচ্ছে না জানতে চাইলে মাহমুদ হোসাইন বলেন, ‘গ্রাহকরা এখন অনেক স্মার্ট। সুতারাং তারা ঠকছেন।
# শফিকুল ইসলাম লেনিন, দৈনিক বর্তমান
# শফিকুল ইসলাম লেনিন, দৈনিক বর্তমান
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন