ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম অনুসঙ্গ ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে অনেক ছাত্র-ছাত্রী, তরুণ ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে প্রতিদিন বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এনে দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রেখে চলেছেন। ইন্টারনেট সহজলভ্য হলে এই অগ্রযাত্রা আরো বেগবান হবে। বাংলাদেশের জন্য পর্যাপ্ত ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের জন্য প্রতিটি গ্রামে স্বল্পমূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট দিতে হবে।বর্তমানে গ্রামীণফোনের পি৩ প্যাকেজে ১ গিগাবাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ ৫০.০০ টাকার কম এবং টেলিটক থ্রিজি এফ৩ প্যাকেজে গ্রাহকের ১ গিগাবাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ ৩৫.০০ টাকার কম। বর্তমানে আইএসপির জন্য প্রতি ১ সেকেন্ডে ১ এমবিপিএস হারে মাসের ব্যান্ডউইথের মূল্য ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৪ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে। বিটিআরসি থেকে ঘোষিত গ্রাহক পর্যায়ের নতুন মূল্যহারে অবশ্যই ওই অনুপাতে কমাতে হবে।
গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের মূল্যহার বিটিআরসি কর্তৃক প্রতি মেগাবাইট ১০ পয়সা এবং প্রতি গিগাবাইট ১০ টাকা হারে এবং সর্বনিন্ম গতি ৫১২ কিলোবাইট অবিলম্বে ঘোষণা ও বাস্তবায়নের করতে হবে।
গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের মূল্যহার ঘোষণার ক্ষেত্রে বিটিআরসি ও আইএসপিগুলোর অন্যতম অজুহাত কস্ট মডিউল নির্ধারণ। মোবাইল টেলিফোনের কলচার্জ নির্ধারণের সময় টেলিকম অপারেটরগুলো নিজেরা কস্ট মডিউল নির্ধারণ করে বিটিআরসিকে জানিয়েছিল কল/মিনিট প্রতি তাদের খরচ হয় ৪ টাকা ৬০ পয়সা। অংকটি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় বিটিআরসির তৎকালীন কমিশন উপদেষ্টা নিয়োগ করে জানতে পারে আসলে অপারেটরগুলোর কল/মিনিট প্রতি তাদের খরচ হয় মাত্র ৩২ পয়সা। এতে প্রমাণিত হয়েছে যে, টেলিকম অপারেটরগুলো ভয়ংকর রকমের প্রতারক। সেই প্রতারক টেলিকম অপারেটরগুলোই আবার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রেভাইডার (আইএসপি)। ইন্টারনেটের কস্ট মডিউল নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইএসপিগুলো প্রতারণার চেষ্টা করলে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
আইএসপিগুলো স্বেচ্ছাচারী ও প্রতারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আইএসপিগুলো গ্রাহকদের ঠকানোর জন্য অসংখ্য প্যাকেজ বাজারে ছেড়েছে। তারা সময়মত ও সঠিকভাবে গ্রাহক সেবা দেয় না। আইএসপিগুলোর কল সেন্টারে সেবার জন্য ফোন করা হলে সহজে হিউম্যান রেসপন্স করে না। ১ ঘন্টা পর্যন্ত মিউজিক শুনিয়ে এবং অপেক্ষা করতে বলে চার্জ কেটে নেয়। ইন্টারনেট সার্ভার ডাউন থাকলেও গ্রাহকদের জানার সুযোগ দেয় না। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটকের কলসেন্টারে বেশিরভাগ সময়ই ফোন ধরে না। গ্রাহকের ক্রয়কৃত ইন্টারনেট ডাটা শেষ হয়ে গেলে আইএসপিগুলো জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া পি১ প্যাকেজের আওতায় প্রতি গিগাবাইট ২১ হাজার টাকা হিসেবে একাউন্টে থাকা সমুদয় টাকা কেটে নেয়। জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া সময়সীমার অজুহাতে আইএসপিগুলো গ্রাহকদের অব্যবহৃত ডাটা বা এর মূল্য আত্মসাত করে। বাংলালায়ন, কিউবি, ওলোসহ ওয়াইম্যাক্স কোম্পানী; ব্রডব্যান্ড ও টেলিকম আইএসপিগুলোর ৪/৫ দিন পর্যন্ত সার্ভিস বন্ধ থাকলেও মাসিক প্যাকেজ হিসেবে ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ওই সময়ের ডাটা বা তার মূল্য আত্মসাত করে। বাংলালায়ন চলতি মাসের ১৪ এবং ১৯ তারিখ টানা চব্বিশ ঘন্টা করে তাদের সার্ভিস বন্ধ করে রেখে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করে। ওই সময় বাংলালায়ন তাদের কাষ্টমার কেয়ারের নাম্বার ০১১৯৮৯৮৯৮৯৮ নাম্বারটিও অকেজো করে রাখে।
স্বেচ্ছাচারীতা ও প্রতারণা ঠেকাতে আইএসপিগুলোকে গ্রাহক পর্যায়ে দুটি মাত্র সরল প্যাকেজ বিক্রির অনুমতি দেয়া যাবে। একটি ১ মেগাবাইট স্লাবে অন্যটি ১ গিগাবাইট স্লাবে। আইএসপিগুলো তাদের ব্যবসার প্রসার ও প্রতিযোগিতা করবে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, সর্বার্ধিক গতি, নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ, সহজ ব্যবহার ও উন্নত গ্রাহক সেবার মাধ্যমে।
গ্রাহক পর্যায়ে স্বল্পমূল্যে দ্রুতগতির ইনটারনেট দেয়ার সবচেয়ে বড় বাধা ফ্রিকোয়েন্সি বা স্পেক্টামের উচ্চমূল্য। ১বছরের মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে গ্রামাঞ্চলে ৬০ শতাংশ কভারেজের জন্য নেটওয়ার্ক স্থাপনের শর্তসাপেক্ষে সকল অপারেটরকে আগামী ৫ বছরের জন্য বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে থ্রিজি লাইসেন্স প্রদানের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলন। এতে গ্রাহক পর্যায়ে স্বল্পমূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট দেয়া সম্ভব হবে।
আরো কর্মসূচি
.bd ডোমেইনঃ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম অনুষঙ্গ এবং ইন্টারনেট-বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচিতির একমাত্র ব্র্যান্ড .বিডি ডোমেইন শুরু থেকেই চরম অবহলার শিকার। নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানী লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের না বুঝার কারণে বা সদিচ্ছার অভাবে .বিডি ডোমেইন কুক্ষিগত হয়ে আছে। প্রকৃতপক্ষে .বিডি চালু করা হয়নি। .বিডি ডোমেইন চালু জন্য সরকারকে সঠিক দিক-নির্দেশনা দেয়ার প্রয়াসে ‘.bd ডোমেইন - আশু করণীয়’ শীর্ষক রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গোলটেবিল বৈঠক করবে তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলন।
‘ফ্রিল্যান্সিং শিল্পের বিকাশে সরকারের ভূমিকা’ শীর্ষক পৃথকগোলটেবিল বৈঠক করবে তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলন।
এছাড়া সময়, পরিবেশ ও প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপযুক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
‘ফ্রিল্যান্সিং শিল্পের বিকাশে সরকারের ভূমিকা’ শীর্ষক পৃথকগোলটেবিল বৈঠক করবে তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলন।
এছাড়া সময়, পরিবেশ ও প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপযুক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।